এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কি ৯ম পে-স্কেলের অন্তর্ভুক্ত? জানুন সর্বশেষ আপডেট
এআই জেনারেটেড ছবিবাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার সিংহভাগই পরিচালিত হয় বেসরকারি এমপিওভুক্ত (Monthly Pay Order) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। স্বাভাবিকভাবেই, যখনই সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন কোনো বেতন কাঠামোর বা পে-স্কেলের কথা আসে, তখন এমপিওভুক্ত লাখ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীদের মনে একটিই প্রশ্ন জাগে—"আমরা কি এই নতুন পে-স্কেলের আওতাভুক্ত হব?"
চলতি ২০২৬ সালের সরকারি সিদ্ধান্ত ও পে-কমিশনের চলমান প্রক্রিয়া অনুযায়ী এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের বিস্তারিত ও স্পষ্ট উত্তর নিয়ে আজকের এই ব্লগ পোস্ট।
সরাসরি উত্তর: এমপিওভুক্তরা কি ৯ম পে-স্কেল পাবেন?
হ্যাঁ, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন ৯ম জাতীয় পে-স্কেলের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন। তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে তাদের বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এবং কিছু সুযোগ-সুবিধায় কিছুটা ভিন্নতা বা ধাপ থাকবে।
গত ২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় পে-স্কেলের নিয়ম অনুসরণ করেই সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এই নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
৯ম পে-স্কেলে এমপিওভুক্তদের বেতন কেমন হতে পারে?
নতুন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো অনুমোদিত হলে এমপিওভুক্তদের মূল বেতন (Basic Salary) উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। পে-কমিশনের প্রাথমিক সুপারিশ অনুযায়ী বিভিন্ন পদের একটি সম্ভাব্য চিত্র নিচে দেওয়া হলো:
- শিক্ষক/প্রভাষক (৯ম গ্রেড): বর্তমানে প্রারম্ভিক মূল বেতন ২২,০০০ টাকা। নতুন স্কেলে এটি বৃদ্ধি পেয়ে ৪০,০০০ থেকে ৪৫,০০০ টাকার ঘরে পৌঁছাতে পারে।
- সহকারী শিক্ষক (১০ম গ্রেড, বিএডসহ): বর্তমান মূল বেতন ১৬,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩২,০০০ থেকে ৩৫,০০০ টাকা হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
- অফিস সহকারী (১৬তম গ্রেড): বর্তমান মূল বেতন ৯,৩০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৮,০০০ থেকে ২০,০০ টাকার কাছাকাছি হতে পারে।
- অফিস সহায়ক/পিওন (২০তম গ্রেড): বর্তমান প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা। নতুন পে-স্কেলের সুপারিশ অনুযায়ী এটি বেড়ে ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
সরকারি চাকরিজীবীদের সাথে ভাতার বৈষম্য কি দূর হবে?
এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের সমপরিমাণ বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতার দাবি জানিয়ে আসছেন।
- বাড়িভাড়া: পূর্বে এমপিওভুক্তদের বাড়িভাড়া ফিক্সড ১,০০০ টাকা থাকলেও ২০২৩ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তা সংশোধন করে মূল বেতনের ১৫% (সর্বনিম্ন ২,০০০ টাকা) করা হয়েছিল। ৯ম পে-স্কেলে এই শতাংশের হার আরও বাড়িয়ে সরকারি নিয়মের কাছাকাছি নেওয়ার জোর দাবি রয়েছে শিক্ষক সংগঠনগুলোর।
- উৎসব ও বৈশাখী ভাতা: নতুন স্কেলেও শিক্ষকেরা ২৫% এবং কর্মচারীরা ৫০% হারে উৎসব বোনাস এবং ২০% হারে বৈশাখী ভাতা পাবেন, তবে নতুন মূল বেতনের ওপর হিসাব করায় বোনাসের টাকার অঙ্ক আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে।
বাস্তবায়নের সময়সীমা ও 'স্বতন্ত্র পে-স্কেল' এর আলোচনা
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ৯ম পে-স্কেল ঘোষণার পর পরই এমপিওভুক্তদের জন্যও প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। তবে রাষ্ট্রীয় বাজেট ও তহবিলের ওপর চাপ কমাতে এমপিওভুক্তদের ক্ষেত্রে এটি ধাপে ধাপে বা কিছুটা ভিন্ন প্রক্রিয়ায় কার্যকর করা হতে পারে।
এর পাশাপাশি, সরকার শিক্ষকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে একটি দীর্ঘমেয়াদী 'স্বতন্ত্র শিক্ষক পে-স্কেল' বা আলাদা বেতন কাঠামো গঠনের বিষয়টিও সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। এটি বাস্তবায়ন হলে শিক্ষকেরা সাধারণ সিভিল সার্ভিসের গ্রেড প্রথা থেকে বের হয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও উচ্চতর একটি বেতন কাঠামো পাবেন।
শেষ কথা
পরিশেষে বলা যায়, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ৯ম পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত হওয়া এখন সময়ের দাবি। নতুন এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন হলে দেশের শিক্ষা খাতে যেমন নতুন গতি আসবে, তেমনি লাখ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী ও তাদের পরিবার অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।।

No comments:
Post a Comment